Sunday, April 22, 2018

ও মৃত্তিকা
শৌভিক রায়

O Goddess Earth,
Please forgive us as
We walk on you this day

উত্তরণ শেষে প'রে থাকো মৃত্তিকা

চাষ হবে,
হবে খানিক অঙ্কুরোদগম

দূষিত রক্তে ভেসে যেতে যেতেও
করছো প্রসব এই সব
যাবতীয়

লিপ্সাহীন নিগূঢ় সঙ্গমে
তোমার সাথে কোন একদিন
পুণ্যতোয়া স্পর্শে ঘুমোবো
নষ্ট এই আমি মানুষ।

প্রকাশিত- নীরজ কোরক, (সম্পাদক- শ্রীমতী মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস) জলপাইগুড়ি

Friday, April 20, 2018

সিরুই খাসঙের প্রজাপতি
শৌভিক রায়

হসপিটালের বেডে শুয়ে রিনসিম। চারদিন কেটে গেছে। সর্বভারতীয় মিডিয়ার নানা লোকের ভিড় ক'মেছে বাইরে। বাইটও দিচ্ছে না আর রিনসিমের কলিগেরা। রেসিডেন্ট কমিশনার অফ স্টেট, মণিপুর, থেকে তার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে যদিও। খবর নেওয়া হচ্ছে পি এম ও থেকেও। ইতিমধ্যেই পুলিশ ধরেছে তিনজনকে। কিন্তু মূল অভিযুক্ত এখনও ফেরার।
নার্স কেবিনে ঢুকে টিভিটা চালালে রিনসিমের কানে এলো এক পুলিশ অফিসার বলছেন যে ওরা বুঝতে পারে নি মেয়েটি ভারতীয়। ভেবেছিল মেয়েটি চীন বা জাপান থেকে এসেছে। আর বিদেশী চামড়ার মোহ এতোটাই যে তারা মেয়েটাকে একা পেয়ে....। মজা করতে গিয়ে ধরা পড়ে যাবে ভাবেনি সেটা। চলন্ত গাড়িতে অবশ্য মজাটা পুরোপুরি করা যায় না। তাও আবার মেয়েটি হাত পা ছুঁড়ছিল। তাই ইচ্ছে থাকলেও চরম পর্যায় পর্যন্ত যেতে পারে নি তারা। আর মেয়েটি যখন হিন্দিতে চিৎকার করতে শুরু করে তখন তারা বুঝেছিল যে ভুলটা হয়ে গেছে। গাড়ির গেট খুলে তাই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় মেয়েটিকে। তাই ধর্ষণের চার্জ না এনে মলেস্টেশনের মামলা করা হচ্ছে। পুলিশ অফিসারের কথা শেষ হতেই টিভির পর্দায় ভেসে উঠলো নারী অধিকার রক্ষা সমিতির এক সদস্যার মুখ। তিনি পুলিশ অফিসারের কথাই সমর্থন করলেন। জানালেন ওনারাও মেয়েটিকে প্রথমে দেখে বিদেশী ভেবেছিলেন। আসলে মণিপুর যে দেশের মধ্যেই সেটা মনে থাকে না তাদের। জাতীয় মহিলা কমিশনের এক সদস্যা জানালেন যে শেষ পর্যন্ত ধর্ষণ হয় নি এটাই বড় কথা। অবশ্যই মণিপুর বা অরুণাচল বা মেঘালয় দেশের মধ্যে। সেখানকার নারীরাও দেশের নারী।
রিনসিম নার্সকে কোনমতে ইশারায় বলে টিভিটা অফ করে দিতে।

**************************************

সিরুই খাসঙের ফুলের আবাদিতে হেঁটে বেড়াচ্ছে রিনসিম। তার পেছনে হেইসিং। রিনসিম হাত দু'টোকে মেলে ধরেছে প্রজাপতির মতো। হেইসিং ছুটছে তার পেছনে। মাঝেমাজেই হাসিতে গড়িয়ে পড়ছে তারা। রিনসিম ফানেক পরলেও হেইসিং প্যান্ট-শার্টই পরা। উখরুলে কত মজা! কত জায়গায় যেতে পারে তারা। খানখুই কেভ, জেনেফুই লেক, নিল্লাই চা বাগান...হেইসিং এগিয়ে এসে রিনসিমের হাত ধরে।ঠোঁট এগিয়ে দেয় রিমসিম।চোখ বন্ধ করে অপেক্ষায় থাকে হেইসিঙের। কিন্তু প্রত্যাশিত সেই উষ্ণ ঠোঁটটা রিমসিমের ঠোঁটের ওপর নেমে আসেনা বেশ খানিকটা পরেও। চোখ খোলে রিমসিম। চোখ খুলে দেখে হেইসিঙের মুখটা পালটে গিয়েছে। হেইসিঙের পাশে আরও দুটো ছেলে। তিনজনকেই তার চেনা চেনা লাগছে।কোথায় দেখেছে ভাবতে না ভাবতেই বিদ্যুৎ চমকের মধ্যে তা তার মনে পড়ে যায়। এই তিনটে ছেলেই সেদিন রাতে তাকে একা পেয়ে চলন্ত গাড়িতে...। না মীমাংসা আজও হয়নি মলেস্টেশন না ধর্ষণ। মাসে অন্তত একদিন তাকে প্রতিদিন এখন ধর্ষিত হতে হচ্ছে আদালতে সবার সামনে।কাঠগোড়ায় দাঁড়িয়ে সে বুঝতে পারে নানাবিধ চোখ চেটেপুটে নিচ্ছে তার শরীরের আগাপাশতলা।ফিসফিস করে বলতেও শুনেছে সে কাউকে কাউকে, "ওখানকার সব মেয়েগুলিই কি এরকম বিদেশী বিদেশি নাকি রে!সত্যি ওদের পুরো দোষ দিয়ে লাভ নেই। দেশের মধ্যেই বিদেশ থাকলে কে আর যায় ব্যাংকক!"  রিমসিম দেখে সেই তিনটে ছেলে তাকে ধরতে আসছে।হেইসিং হেইসিং বলে জোরে চিৎকার করলেও গলা দিয়ে স্বর বের হয়না রিমসিমের। দিগ্বিদিক না দেখে পিছু ফিরে ছুটতে শুরু করে রিমসিম। ছুটতে ছুটতে এসে দাঁড়ায় পাহাড়ের এক কোণায়।এদিকে তিনটে ছেলে ছুটে আসছে! নাঃ। আর ভাবনা নয়।রিমসিম ঝাঁপ দেয়।

*************************************

প্রজাপতি হয়ে গেছে রিমসিম। সিরুই খাসং থেকে লাফ দিতেই শরীরটা হালকা হয়ে দুটো পাখা কোথা থেকে যেন আপনাআপনি গজিয়ে গেল রিমসিমের পিঠে। শক্ত মাটিতে না পড়ে,ছিন্নবিচ্ছিন্ন না হয়ে রিমসিম প্রজাপতি হয়ে মণিপুর, জাপান,চীন,উত্তরপ্রদেশ, কেরালা সব জায়গায় উড়ে বেড়ায় আজকাল। তার রঙবাহারী, মোমের মতো তুলতুলে শরীর দেখে সবাই তার পেছনে হাততালি দিয়ে বেড়ায়। তার আর এখন কোনো দেশ নেই,নেই কোনো জাত। সে একটা প্রজাপতি। সুন্দর,ফুটফুটে।


কোর্টেই কেবল দুপক্ষের উকিল লড়ে যাচ্ছে মলেস্টেশন না ধর্ষণ ছিল সেই দেশের ভেতর থাকা বিদেশি দেখতে জায়গার মেয়েটার কেসটা।

(প্রকাশিত- ফুলেশ্বরী নন্দিনী, শিলিগুড়ি

Wednesday, April 18, 2018

বৈষম্য
শৌভিক রায়

সিট বেল্ট বেঁধে মাথাটাকে চিতিয়ে দিতেই অরিত্রর চোখ গেল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এয়ার হোস্টেসের দিকে। মুহূর্তেই বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল অরিত্রর।
আমস্টারডাম থেকে দিল্লী অবধি পুরো রাস্তাটা ঘুমোবে বলে ভেবেছিল অরিত্র। মনটাও চাঙা হয়ে রয়েছে। লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে তার বক্তব্য এই কনফারেন্সে বিপুল প্রশংসা পেয়েছে। নারীর অধিকার রক্ষায় যেভাবে সে সোচ্চার হয়েছে তাতে অন্য দেশের প্রতিনিধিরা সাবাস জানিয়েছে, বিশেষ করে মহিলারা। কিন্তু এয়ার হোস্টেস মেয়েটাকে দেখে তার এতক্ষণের মানসিক স্থৈর্যটা ভেঙে গেল।

দিল্লীতে নামবার আগে সাহস করে মেয়েটাকে তার নাম জিজ্ঞেস করতেই পরিষ্কার হয়ে গেল সব। ঠিকই ধরেছিল সে। প্রতিভা তবে প্রতিশোধটা নিয়েইছে। মেয়েকে এয়ার হোস্টেস বানিয়ে ছেড়েছে। এই এয়ার হোস্টেস হওয়া নিয়েই অরিত্রর সাথে সমস্যা শুরু। মেয়েদের আবার কিসের চাকরির দরকার! তার একার উপার্জন কি যথেষ্ট নয়? এই ছিল অরিত্রর যুক্তি। বিরোধটা তিক্ততার আকার নেবার আগেই দু'জনে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। স্বভাবমতো প্রতিভা জানায়ও নি যে অরিত্রর সন্তান তার গর্ভে।
মিমোসা খুব গর্ব নিয়ে মায়ের নাম বলেছে তাকে। বাবার নামটাও জানিয়েছে। জানিয়েছে বাবা মা আলাদা থাকেন। সরকারী আমলা এ চ্যাটার্জীকে সে ছবিতে দেখেছে বহুবার। এ চ্যাটার্জীর কাজের খবর রাখে মিমোসা। আমস্টারডামে পেপারেই পড়েছে ডঃ চ্যাটার্জীর ভাষণের কথা। ভারতীয় হিসেবে সে ডঃ চ্যাটার্জীর জন্য গর্বিত।
.....না সে তার বাবা অরিত্র চ্যাটার্জীকে চেনে না। দেখে নি কোনদিন।

(প্রকাশিত- এক মুঠো রোদ, ইসলামপুর

Friday, April 13, 2018

শিরোনামে কি যায় আসে!
ভাবনা: শৌভিক রায়

লম্ব কিরণ সূর্য ছিল
বার্চ-উইলোর সারি
ছিল সেই মেয়েটি যে
ছোট্ট পায়ের নারী (!)

আলো ঢেকেছে অন্ধকার
বার্চ-উইলো নীরব
আস্ফালনের মুখটা তবু
আজ হবে না সরব!

Thursday, April 12, 2018

বাকি সব?
পাখি সব...
শৌভিক রায়

কিছু পেলে খুব লাফাই

লাফাতে বেশ লাগে

লাফানো মানেই প্রদর্শন
টপাটপ হাততালি,
জোয়ারের মত মোসাহেব
জো হুজুর পা চাটে

যত লাফ তত উচ্চতা

ধাঁই-ধপাস পড়ে গেলে
গতরে বড় ব্যথা

মন বলে লাফাতে নেই
লাফাই তবু

লাফিয়েই যাই, কম্মো ওটাই

বাকি সব?

হে হে
পাখি সব
করে রব...

Sunday, April 1, 2018

মেরুদন্ড আর ডিগবাজি
শৌভিক রায়

ডিগবাজি দিতে জানা একজন লোক
আর একজন ডিগবাজি দিতে জানা লোককে
চিনবে, ডাকবে, পিঠ চুলকে দেবে
এ কোন নতুন কথা নয়।

এ কথাও নতুন না যে 
তারা নিজেরা ডুগডুগি বাজাবে,
অঙ্গভঙ্গি করবে লোক হাসাবে,
সবশেষে সেলফি তুলে
গান্ডেপিন্ডে খেয়ে
গলায় মেডেল ঝুলিয়ে
নিজের পিঠ চুলকোতে চুলকোতে
বাড়ি ফিরে আসবে
আর একটা নাচের প্রস্তুতি নিতে

 
ডিগবাজি দিতে জানলেও
সবাই ডিগবাজি দেয় না
মেরুদন্ড বাঁকাবে না বলে

সেইসব লোকেরা সকাল থেকে
হাবিজাবি কাজ সেরে
পদ্য লেখে, গান গায়
বিভোর স্বপ্নে হেঁটে যায়
প্রান্তরের পর প্রান্তর আপন মনে

ঠিক তখনই সূর্য ওঠে নতুন করে